|
দীর্ঘ একটি সময় অনিচ্ছাকৃত প্রবাসজীবনের পর দেশে
ফিরে এসে নিজেকে এক খাপ-না-খাওয়া মানুষ হিসেবে
আবিষ্কার করে অঞ্জন। শৈশব-কৈশোর আর নিজ-গ্রাম
উদাসপুরের স্মৃতিতে ডুবে থাকা, আর বর্তমানের সঙ্গে
কিছুতেই নিজেকে মানিয়ে নিতে না পারা এই বিষণ্ন
যুবক তার আপাত-অসম্ভব স্মৃতিকারতায় নিজে ভেসে যায়,
ভাসিয়ে নিয়ে যায় তার চারপাশের মানুষকে। এবং
পাঠককেও বটে। প্রায় পুরো উপন্যাসটিই কারো না কারো
স্মৃতি-কথকতায় এগিয়ে চলে, উঠে আসে অঞ্জনের তিন
প্রজন্মের ইতিহাস, আর তিনটি কালপর্ব_
ব্রিটিশ-ভারত, পাকিস্তান ও বাংলাদেশ। আর শেষের
দিকে এসে অঞ্জন তার চিরচেনা উদাসপুরে ফিরে এসে
আবিষ্কার করে, এই গ্রামও তার অচেনা হয়ে গেছে! কারো
মুখই আর অঞ্জনের কাছে স্পষ্ট হয়ে ওঠে না। এই
রহস্যময় সময়ের অদ্ভুত অন্ধকারে তার হৃদয় ভিজে উঠলে
প্রকৃতিজুড়ে বৃষ্টি নামে, যেন প্রকৃতিও তার
ব্যাথাতুর কান্নার সঙ্গী হতে চায়। এই উপন্যাসের
নায়ক কোনো ব্যক্তি নয়_ সময়। এই সময়ের এক সংবেদী
রূপকার, শক্তিমান কথাশিল্পী আহমাদ মোস্তফা কামাল
তাঁর অনুপম-সজীব-নির্বিকল্প গদ্যে বিবিধ আখ্যানের
আলোকে এঁকেছেন বিরাট এক সময়ের ছবি, স্বল্প পরিসরে
নিয়ে এসেছেন বিশাল ব্যাপ্তি, এঁকেছেন এই সময়ের
অস্থিরতা ও বন্ধ্যাত্ব, বৈকল্য ও বিকার, গ্লানি ও
বেদনা, অসুখ ও স্খলন, যন্ত্রণা ও ক্লান্তিকে।
জাদুবিস্তারি বর্ণনায় তিনি সাজিয়েছেন মানুষের
নিভৃত ও কোলাহলময় মুহূর্তগুলো, সেই সঙ্গে এঁকেছেন
অস্থিমজ্জায় জাগরূক আমাদের ছেলেবেলাকে; আমরা তার
গন্ধ পাই, আলো পাই, শব্দ শুনি। আসুন, প্রিয় পাঠক,
আমরাও তাঁর সঙ্গে সময় পরিভ্রমণ করি। |