আমরা বরং ঘটনাটিকে একটি প্রেমের গল্পে রূপ দেবার চেষ্টা করতে পারি।
ঘটনাটি অবশ্য কোনো গল্প নয়, সম্ভবত স্বপ্নও নয়। হয়তো সত্যিই তা
ঘটেছিলো, কিন্তু যুবকের কাছে মনে হয়েছিলো_ এ এক ভুল করে দেখা মধুর
স্বপ্ন। আমরা বিপরীত সম্ভাবনাটিকেই বা বাদ দিচ্ছি কেন- এমনও তো হতে
পারে যে, ঘটনাটি স্বপ্নেই ঘটেছিলো কিন্তু যুবক তাকে ভুল করে সত্যি
বলে ভেবেছিলো! যাহোক, স্বপ্ন না বাস্তব সেটি আমাদের বিবেচ্য বিষয়
নয়। আপাতত গল্পটির বর্ণনা দিতে হলে আমাদের মনে পড়ার কথা যে,
স্ব্বপ্নের মতো সেই মেয়েটিকে দেখে যুবক মন্ত্রমুগ্ধের মতো
দাঁড়িয়েছিলো। মেয়েটির চোখে যেন পৃথিবীর সমস্ত মানবীর
না-বলা-কথাগুলো ভিড় করেছিলো, আর বর্ণনাতীত মাধুর্যমাখা হাসি হেসে
যুবকের দিকে এগিয়ে এলে তার গ্রীবায় জোছনাগুলো এসে বাসা বেঁধেছিলো।
আর ঠিক তখনই_
দৃশ্যপট পাল্টে যায়।
মেয়েটি এসে কণ্ঠে শতাব্দীর মাধুর্য ঝরিয়ে জিজ্ঞেস করে-কেমন
আছেন? সেই যে গেলেন আর তো এলেন না বাসায়?
যুবকের মনে পড়ে, শেষবার যখন সে গিয়েছিলো ওই বাসায়, খুব সমাদর
করেছিলো মেয়েটি। ফিরে আসার সময় হাজারবার মিনতি করেছিলো-'আবার
আসবেন।' সে কথা দিয়েছিলো, কিন্তু যাওয়া হয়ে ওঠেনি আর। এখন সে স্মিত
হাসে। তারও প্রাচীন রাজপুত্রদের মতো গড়ন, ঋজু শরীর, দীর্ঘ কাঁধ,
প্রশস্ত বুক, তীক্ষন চোখ। মেয়েটির মুগ্ধ দৃষ্টি তার চোখ এড়ায় না।
যুবক তার উদ্দেশ্যে করা প্রশ্নের উত্তর না দিয়ে পাল্টা জিজ্ঞেস
করে-
তুমি কেমন আছো? তুমিও তো আসো না কখনো!
আমি কিন্তু আমার প্রশ্নের উত্তর পাইনি।
এই আর কি! আসা হয় না, ব্যস্ত থাকি।
ইস! কী এমন ব্যস্ততা আপনার! শুধু তো পথে পথে ঘুরে বেড়ানো। এত ঘুরতে
পারেন আর আমাদের বাসায় আসতে পারেন না!
তরুণীর কণ্ঠ আদুরে অভিমানে ভরে ওঠে। যুবক প্রীত বোধ করে। তারই জন্য
এ অভিমান, ভাবতে বুক ভরে যায়।
এবার তুমি বলো, কেন আসো না।
যাবো না তো, কোনোদিন যাবো না।
কোনোদিন না?
না- তরুণীর অভিমান গাঢ় হয়।
যুবকের মুচকি হাসি এবার প্রসারিত হয়ে ঠোঁট উজ্জ্বল করে তোলে-
ঠিক আছে। আমিই না হয় যাবো এবার।
তরুণী নিশ্চুপ।
রাগ ভাঙো রাজকন্যা, বললাম তো যাবো।
মেয়েটির ঠোঁটে লাজুক হাসি ফিরে আসে, সম্ভবত ওই সম্বোধনের জন্যই।
সত্যি তো?
হ্যাঁ।
মনে থাকে যেন!
আচ্ছা।
এবার বলুন তো, এত কোলাহল তবু একা দাঁড়িয়ে আছেন কেন?
সঙ্গী পাচ্ছি না।
সঙ্গী পাচ্ছেন না? -তার কণ্ঠে বিস্ময়।
যুবক মাথা নাড়ে।
সত্যি পাচ্ছেন না?- তার কণ্ঠে সমর্পণের সুর। যুবকের হয়তো এখন বলা
উচিত 'সঙ্গী হবে তুমি মেয়ে?' কিন্তু রাজপুত্রদের খানিকটা অহংকার তো
থাকেই, তার বলা হয় না কিছুই। সবকিছু বলার দরকারই বা কি? অনেককিছু
তো স্বতঃস্ফূর্তভাবেও ঘটে যায়। এই যেমন এখন, আমরা দেখি, তারা
পাশাপাশি হাঁটতে শুরু করেছে। বিয়ে বাড়ির কোলাহলে নির্জনতা দুর্লভ,
নির্জনতা খোঁজাও নিরর্থক। তবু তারা হয়তো নিজেদের অজান্তেই খুঁজছিলো
এবং কে না জানে তীব্র আলোর পরিপার্শ্বে যেমন কোথাও না কোথাও খানিক
অন্ধকার থাকে, তীব্র কোলাহলেও তেমনি কোথাও এক টুকরো নির্জনতা থাকে।
তারা অবশেষে তেমনি এক রহস্যময় নির্জনতায় গিয়ে দাঁড়িয়ে পরস্পরের
কাছে কেমন অচেনা হয়ে ওঠে। মেয়েটির কাছে যুবককে কোনো এক দূর অতীতের
দূর দেশের বিশ্বজয়ী রাজকুমার বলে মনে হয়। ছেলেটির কাছে যুবতীকে
কোনো এক প্রাচীন রাজ্যের রাজকন্যা বলে মনে হয়- যার জন্য হাজার বছর
যুদ্ধ করতে সাধ জাগে। তারা দু-জনেই হয়তো এই দূরত্ব ঘুচিয়ে ফেলতে
চায়, কিন্তু কিভাবে তা করতে হবে বুঝে উঠতে পারে না। কিছুক্ষণ
ব্যাখ্যাহীন নীরবতা। কিছুক্ষণ টুকটাক এলোমেলো কথা বলার চেষ্টা।
যুবকের চোখে কিছু খুঁজে বেড়ায় মেয়েটি, আর যুবক এলোমেলো হতে থাকে।
নিজেকে নিজেই প্রশ্ন করে, কিভাবে সে পারে এই রহস্যময়ী সুন্দরের
সুদূর নীলিমাকে কাছে পাবার সম্ভাবনা সত্ত্ব্বেও দূরে দূরে থাকতে?
সে কি তবে প্রেমিক নয়? সে কি তবে মনুষ্য-হৃদয়ের স্বাভাবিক ধারাকে
অস্বীকার করে? তার মনে পড়ে- মা বেঁচে থাকতে প্রায়ই বলতেন- 'তোর
কাছে আর কিছুই চাই না, ওকে এনে দে। ও এসে আমার ঘর উজ্জ্বল করুক।'
মৃতু্র সময়ও তার ওই একটিই চাওয়া ছিলো। 'মায়ের ইচ্ছেটা এবার পূরণ
করতেই হয়'-ভাবতেই যুবকের ঠোঁটে উজ্জ্বল, নিঃশব্দ, কিঞ্চিত লাজুক
হাসি ফুটে ওঠে আর-
দৃশ্যপট আবার পাল্টে যায়।
তার রাজপ্রাসাদের মতো বাড়ি। অথচ শূন্য। খাঁ খাঁ বিশাল প্রান্তরের
মতো যেন। বাড়ির এ প্রান্ত থেকে ও প্রান্ত পর্যন্ত হেঁটে যেতে
দীর্ঘসময় লাগে। প্রতিটি কক্ষ দুর্লভ আর মূল্যবান সামগ্রী দিয়ে
সাজানো। সবই আছে, শুধু মানুষ নেই। অথচ যুবতীর উপস্থিতিতে দু-দিনেই
ভরে ওঠে সব। তার হাসিতে মেঘ চিড়ে বিদ্যুৎ চমকায় আর যুবক দ্যাখে-
পৃথিবীর সকল আঁধার যেন কেটে গেলো এক মুহূর্তে। তার নূপুরের শব্দ
যেন এই জটিল শহরেও ঝরনার কলতান ধ্বনি ডেকে আনে; তার চুড়ির রিমঝিম
শব্দ শুনে যুবকের মনে হয়- এমন ছন্দ বুঝি নেই পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ
কবিতায়ও, এমন সুর বুঝি এমনকি বিটোফেনও বাজাননি কখনো; তার চোখে
তাকিয়ে যুবক দেখে নিতে পারে সমুদ্রের গভীর তলদেশ পর্যন্ত- কার
সাধ্যি, এমন চোখের উপমা দেয়? যুবকের জীবন যাপন বদলে যায়।
দীর্ঘদিনের অনিয়ম করার নিয়ম পাল্টে যায়। গন্তব্যহীন, দিকচিহ্নহীন
হয়ে ঘুরে বেড়ানো হয় না আর। তবে কি সব পেয়ে গেছে সে, যা খুঁজে
বেড়াতো প্রতি মুহূর্তে? একজন মমতাময়ী কি পাইয়ে দিতে পারে জীবনের সব
দুর্লভ চাওয়া? স্বপ্নের মতো তাদের দিন কেটে যায়। শুভ্র সকালে তার
ঘুম ভাঙে যুবতীর মধুর ডাকে, ঝিমানো দুপুর তার কলহাস্যে, ক্লান্ত
বিকেল তার মমতাময়ী সানি্নধ্যে, বিষণ্ন সন্ধ্যায়- সারাজীবন যা তার
মন খারাপ করিয়ে দিয়েছে- তার সঙ্গ এই যান্ত্রিক নগরেও এক শুভ্র
হাওয়া বইয়ে দেয়। আর রাত যেন এক অভূতপূর্ব অভিজ্ঞতা। এত মধু যুবতীর
ভেতর, যুবকের নেশা লেগে যায় যেন। যুবতীর ক্লান্তি নেই, যুবকেরও।
তবু রাত গড়িয়ে যখন ভোরের আলো ফুটতে শুরু করে, তখন খানিকটা অবসন্ন
লাগে। সকালে মেয়েটির ঘুম ভাঙে আগে, ঘর সেড়ে, সকালের নাস্তা তৈরি
করে, গোসল করে শুভ্র হয়। তারপর যুবকের ঘুম ভাঙাতে আসে। গভীর আলস্য
তখনো জড়িয়ে থাকে তার শরীর জুড়ে। ডাক শুনেও তার ঘুম ভাঙে না। কানের
কাছে তখন মধু ঝরে- এ্যাই, ওঠো না, আমার একা লাগে না বুঝি? - তবু
তার ঘুম ভাঙে না। মেয়েটি তখন দুষ্টুমি করে আয়না দিয়ে তার চোখে
সূর্যের আলোর প্রতিফলন ফেলে। চোখ মেলে যুবক দ্যাখে, বেলা হয়ে গেছে।
দৃশ্যপট এবার সত্যিই পাল্টায়।
তার ছোট এক চিলতে ঘর- কোনোরকম মাথা গোঁজার একটা ব্যবস্থা। একটা
চৌকি, একটা টেবিল আর ছড়ানো বইপত্রে হাঁটার জায়গাও নেই। সকাল হতে
না হতে পুবমুখী একমাত্র জানালা দিয়ে রোদ এসে তার চোখে পড়ে।
প্রতিদিন সে ভাবে- জানালাটি বন্ধ করে শোবে। মনে থাকে না। তাছাড়া,
দম আটকানো গুমোট তৈরি হয়। সে অবশ্য এখন বিরক্ত হবার বদলে বরং
সূর্যকে ধন্যবাদ দিচ্ছে ঘুম ভাঙানোর জন্য। নইলে অফিসে দেরি হয়ে
যেত। ছোটখাট কেরানিদের কতোরকম সমস্যা। বড় সাহেব-ছোট সাহেব সবাই
শুধু ধমকায়। হঠাৎই তার রাতের স্বপ্নটির কথা মনে পড়ে। হতে পারে
ঘটনাটি সত্যিই ঘটেছিলো কিন্তু যুবকের কাছে তা এখন স্বপ্নের মর্যাদা
পেয়ে যাচ্ছে। কি দীর্ঘ, সুস্পষ্ট স্বপ্ন্ন! তার ঠোঁটে মৃদু হাসি
ফোটে। যাক, তবু ভালো- স্বপ্নে সে পরাজিত হয়নি। তার একমাত্র নেশা-বই
পড়া। কতোবার তার মনে হয়েছে, তার জীবনটা যদি উপন্যাসের সফল নায়কদের
মতো হতো! অন্তত স্বপ্নে তো তা হয়েছে! তার চোখে-মুখে তাই তৃপ্তির
সুখ খেলা করে।
গতরাতে বিয়ে বাড়িতে দেখা মেয়েটিকে মনে পড়ে তার। কতোকাল আগে তাকে
দেখেছিলো সে, আজও ভুলতে পারেনি। দূর সম্পর্কের আত্মীয় মেয়েটি, কতো
দূরের সে ঠিক জানে না। কিন্তু মনে পড়ে- মা বেঁচে থাকতে প্রায়ই
বলতেন-'আহা, ওরকম একটা মেয়ে যদি বউ হয়ে আসতো আমার ঘরে!' অসম্ভব
স্বপ্ন- মা জানতেন- পূরণ হবার মতো নয়। কেবল দীর্ঘশ্বাসে হারিয়ে
যাবার মতো স্বপ্ন তাকে কে দেখতে বলেছিলো কে জানে! সে একবারই
মেয়েটির বাসায় গিয়েছিলো- মায়ের মৃত্য সংবাদ দিতে। সুসজ্জিত ড্রয়িং
রুমে সুশোভিত মানুষগুলোর কলহাস্যের ভেতর সে বেমানানভাবে বসেছিলো।
মায়ের মৃতু্যটা তাদের কাছে কোনো ঘটনাই ছিলো না। কেউ একটু
সহানুভূতিও জানায়নি তাকে, মেয়েটি একবার ফিরেও তাকায়নি তার দিকে।
গতরাতেও মেয়েটি তার দিকে এগিয়ে এসেছিলো, সঙ্গে সম্ভবত বান্ধবীরা
ছিলো। তবে এসে জিজ্ঞেস করেনি- 'কেমন আছেন' - বলেছিলো- 'স্টুপিডের
মতো পথের মাঝখানে দাঁড়িয়ে আছেন কেন?'- সে সরে দাঁড়াতে ওরা হাসাহাসি
করতে করতে, একে অপরের গায়ে পড়তে পড়তে, যাওয়ার সময়- 'লোকটার পোশাক
কী নোংরা, কী বিচ্ছিরি দুর্গন্ধ ছিঃ'- বলতে বলতে চলে গিয়েছিলো।
কিন্তু তার কেমন যেন ঘোর লেগে গিয়েছিলো । তারপর কিছুই মনে নেই- সে
কিছু খেয়েছিলো কী না, কখন ফিরে এসেছে, কিছুই না।
তার একটা দীর্ঘশ্বাস পড়ে। কি দরকার ছিলো ওখানে যাওয়ার? সে তো নিজের
অবস্থান জানতোই, তবু কেন গেলো সে? পর মুহূর্তেই তার মনে হয়- ভালোই
হয়েছে, নইলে এমন চমৎকার একটি স্বপ্ন দেখা হতো না! বাস্তবে তো
স্বপ্নপূরণ হবার নয়, স্বপ্নেই না হয় হলো! বাবা ছিলেন জীবন যাপনে
ব্যর্থ এক মানুষ। স্বল্প বেতনের চাকরি করতেন, টানাটানি করে সংসার
চালাতেন আর বই পড়তেন (কী অদ্ভুত শখ, সংসার চলে না, বই পড়ছেন!) আর
স্বপ্ন দেখতেন, তার ছেলে একটা কিছু হবে! মানুষ নাকি নিজেকে বাঁচিয়ে
রাখতে চায় তার সন্তানের মধ্য দিয়ে। বাবাকে এক্ষেত্রে সফল বলতে হবে,
সেও বাবার ট্রু-কপি। ব্যর্থ আর পরাজিত। বাবার ভাগ্য ভালো- ছেলের
ব্যর্থতা তাঁকে দেখে যেতে হয়নি। মাকেও ভাগ্যবতীই বলতে হবে- যে
মেয়েকে পুত্রবধু বানাবার সাধ ছিলো, সে তাঁর মৃতু্সংবাদে এতটুকু
বিচলিত হবে না- এই সত্য মা জানতেন না। যুবক তার গালে হাত বুলায়।
খোঁচা খোঁচা দাড়ি জমেছে, কামানো দরকার। আর কী-ইবা হব এসব করে! ভাঙন
ধরছে শরীরে। চোয়াল ভেঙে যাচ্ছে, চোখ কোটরাগত, চুল পড়ছে দ্রুত। সে
তার জামা কাপড়ের দিকে তাকায়। সত্যিই নোংরা হয়েছে। পরিষ্কার করা
দরকার। কী হবে পরিষ্কার করে- পর মুহূর্তে সে ভাবে- দু-দিনেই সব
আগের মতো। তার দুটো মাত্র প্যান্ট, দুটো শার্ট, পর্যায়ক্রমে পড়তে
হয়। টাউন সার্ভিসের ব্যর্থ মানুষের গাদাগাদি ভিড়ে, ঘামে,
চিৎকার-চেচাঁমেচিতে, কন্ডাক্টরের সঙ্গে সামান্য পয়সা নিয়ে ঝগড়ায়,
অফিসে অবহেলায়-ধমকে আর সারা জীবনের প্রবহমান ব্যর্থতায় তার মনটাই
তো চিরকালের জন্য মরে গেছে। এসব করে আর কী হবে!
ক-টা বাজলো কে জানে! হাত ঘড়িটা দীর্ঘদিন ধরে নষ্ট হয়ে পড়ে আছে-
সারানো হয় না। দীর্ঘকাল সে একই রকম জীবন যাপন করছে। পরিবর্তনহীন-
যেন এক স্থবির জড় পদার্থ সে। সময় যেন স্থির হয়ে আছে, ঘড়ি সারিয়েই
বা কি হবে? সে ম্লান হাসে। বেলা হলো, এবার বেরোতে হয়- ভেবে সে
অতঃপর তার এক চিলতে ঘরের ভেতর, মাথা ঠেকানো ছাদের নিচে উঠে দাঁড়ায়।
দ্রষ্টব্যঃ ঘটনাটি একটি প্রেমের গল্পের রূপ নিতে পারতো- আমরা
স্বীকার করছি। পাত্র-পাত্রীও ছিলো। কিন্তু তারা রাজকুমার-রাজকন্যা।
রাজরাজড়াদের জীবন যাপন, কী প্রাসাদ, কী ব্যবহৃত জিনিসপত্র, কী
সংলাপের সঙ্গে আমাদের লেখক একেবারেই পরিচিত নন- ফলে ঐ জীবন বর্ণনা
করতে গিয়ে হাসফাঁস করতে করতে অবশেষে তিনি নিজেরই এক চিলতে ঘরে ফিরে
এসেছেন।
জানুয়ারি, ১৯৯৮। |
|
|
| |
 |
|